রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ এ কথার অর্থ কী?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ এ কথার অর্থ কী?

Md.Ishaq Shahid   22 March 2020   339 Last Updated : 01:25 PM 22 March 2020

প্রশ্ন:৯৬/১৪৪১,২০২০
আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরন করেছেন- যা কোরআনে আছে। আমার জানার বিষয় হলো বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?

নিবেদক 
আমিনুল হক 
ঢাকা

উত্তর : ৯৬/১৪৪১,২০২০

بسم الله الرحمن الرحيم
الجواب باسم ملهم الصدق والصواب.

কোরআন হাদিস ও তাফসীরের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করে নিম্নে প্রশ্নের উত্তর উল্লেখ করা হলো। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন-

وما ارسلناك الا رحمة للعالمين.

অর্থ: আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপ প্রেরন করেছি। (সূরা আম্বিয়া আয়াত নং ১০৭)
ওলামায়ে কেরামের কেউ কেউ বলেন এখানে বিশ্ববাসীর দ্বারা শুধু ঈমানদার উদ্দেশ্য। অতএব তিনি মুসলমান ও কাফেরের সকলের জন্য রহমত স্বরূপ।
সকলের জন্য রহমত কিভাবে এর ব্যাখ্যায় ওলামায়েকেরাম নিম্নে বর্ণিত ব্যাখ্যা সমূহ পেশ করেছেন।

পূর্ববর্তী উম্মতের কাফেরদেরকে দুনিয়াতে বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হতো, যেমন: বিকৃত করা, ডুবিয়ে দেয়া, বাতাস দ্বারা ধ্বংস করে দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু      আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মত কে এরূপ শাস্তি দিবেন না।
অতএব এই হিসেবে তিনি সকলের জন্য রহমত স্বরূপ। তিনি ঈমানদারের জন্য রহমত এ হিসেবে যে, সে দুনিয়া, আখেরাতে উভয় জাহানে সফলকাম হয়ে গেল। আর কাফেরদের জন্য রহমত এ হিসেবে যে, সে দুনিয়াবি বিভিন্ন শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকলো। 

●হাদীসে এসেছে " তখন পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করনেওয়ালা থাকবে না, আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবী ধ্বংস করে দিবেন।" আর পৃথিবীতে কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদতকারী থাকার মাধ্যম হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব হিসেবে তিনি দুনিয়ার সমস্ত মানুষ বরং সমস্ত বালুকনার জন্য রহমত স্বরূপ। 

●সকলের জন্য রহমত স্বরূপ আল্লাহ তাআলা জরিনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্ররণ করেছেন। এখন যে ব্যক্তি এই রহমতকে কবুল করবে, তার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে সে ওই রহমত থেকে উপকৃত হবে। আর কোন হতভাগা যদি এ রহমতকে কবুল না করে, তবে এটা তারই অক্ষমতা। যেমন: সূর্য সকলকে আলো বিতরণ করে। কোন ব্যক্তি যদি ওই আলো গ্রহণ না করে, গর্তে ঢুকে বসে থাকে তবে এটা সূর্যের দোষ নয়, বরং ওই ব্যক্তির ওই অক্ষমতা।

●তিনি সকলের জন্য এমন ব্যাপক রাহমত যে, যে দূরে থাকতে চায় তার প্রতিও রহমত পৌছে যায়, অতঃপর সে ঈমান আনয়ন করে দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় জাহানের সফলকাম হয়ে যায়।

●রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের জন্য ব্যাপক রহমত। এমনকি তিনি যে কাফেরদের সাথে জিহাদ করেছেন তাও বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ। তা এ হিসেবে যে, এ জিহাদের দ্বারা কুফরীর অন্ধকার থেকে বিশ্ববাসীর নাজাত লাভ করে এবং কাফেরদের মধ্যে অনেকের হেদায়েতের বুঝে চলে আসে। যেমন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদীসে ইরশাদ করেছেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই তাদেরকে হত্যা করব, তাদেরকে অবশ্যই শুরুতে চড়াবো এবং অবশ্যই আমি তাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করবো, চাই তারা তা অপছন্দ করুক। কেননা আমি রহমত। আল্লাহ তাআলাই আমাকে প্রেরণ করেছেন এবং তিনি আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু দিবেন না যতক্ষন তিনি তার দ্বীনকে দুনিয়াতে বিজয়ী না করবেন।

Last Updated : 01:25 PM 22 March 2020