সন্তান বাবার ব্যবসা হতে নিজের জন্য কিছু ক্রয় করলে../ জীবিত অবস্থায় পিতা সন্তানকে সম্পদ দান করা..

সন্তান বাবার ব্যবসা হতে নিজের জন্য কিছু ক্রয় করলে../ জীবিত অবস্থায় পিতা সন্তানকে সম্পদ দান করা..

Esteem Soft Limited   29 February 2020   592 Last Updated : 05:29 PM 29 February 2020

প্রশ্ন : ৫৮/১৪৪০,২০১৯

আমির সেনিটারি মোহাম্মদ আলী সাহেবের একক মালিকানায় ২০০২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়। বয়স জনিত কারণে এবং পুঁজির অভাব হেতু ২০০২ সালে মোহাম্মদ আবুল খায়র সাহেবকে আধাআধি ভিত্তিতে অংশীদার হিসাবে গ্রহণ করা হয়। এবং একই সময়ে পারিবারিক পরামর্শক্রমে ব্যবসা পরিচালনার জন্য মোহাম্মদ আলী সাহেব তার বড় ছেলে মোঃ মোস্তফা কে ব্যবসাতে নিয়োগ দেন। আর নিজের অবসর গ্রহণ করেন। কিছুদিন পর ভাড়ার ভিত্তিতে আরেকটা দোকান নিয়ে আমির সেনিটারি নামেই ব্যবসা চলতে থাকে। এই ব্যবসা থেকেই কল্পলোকে একটা প্লট ক্রয় করা হয়। এই প্লটের মালিক মোহাম্মদ আবুল খায়ের ও মোহাম্মদ মোস্তফা। তারপর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শুরুর (প্রথম) আমির সেনেটারী দোকান ও অংশীদারের পুঁজি পৃথক করা হয়। এর কিছুদিন পর পান্ডা টাওয়ারে একটা দোকান সাফ কবলায় ক্রয় করা হয়। যার মালিক মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ আবুল খায়ের‌। এটি বর্তমানে রয়েল সেনিটারি নামে মোহাম্মদ মোস্তফা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। মোহাম্মদ আলী সাহেবের বড় ছেলে মোহাম্মদ মোস্তফা বর্তমানে এই রয়েল সেনিটারির মালিকানা নিজ নামে হস্তান্তর করতে চাচ্ছে।

উল্লেখ্য মোহাম্মদ আলী সাহেবের সাংসারিক খরচ ও নিজ (মোহাম্মদ মোস্তফা) সংসারের খরচ মোহাম্মদ মোস্তফা বহন করছে।

প্রশ্ন:

উপরুক্ত অংশীদারি ব্যবসার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানার উপর মোহাম্মদ মোস্তফা ও মোহাম্মদ আলী সাহেবের অন্যান্য ওয়ারিশগণের হক সম্পর্কে শরীয়ত সম্মত ফায়সালা চাই।

প্রশ্নকারী: মোহাম্মদ রেদওয়ান

০১৯১৪ ৬৪৯ ০৭০

উত্তর : ৫৮/১৪৪০,২০১৯

بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআন, হাদীস ও ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব সমূহের আলোকে নিম্নে প্রশ্নের সমাধান উল্লেখ করা হলো-

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মোহাম্মদ আলী সাহেব তার বড় ছেলে মোহাম্মদ মোস্তফা সাহেব কে তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন, মালিক বানিয়ে দেননি। তাই এই ব্যবসার মাধ্যমে যে অর্থ-সম্পদ ও জায়গা-জমি অর্জন হয়েছে তার মালিক মূলত মোহাম্মদ আলী সাহেব। অতএব তিনি জীবিত থাকাবস্থায় এ সমস্ত সম্পত্তির হকদার তিনিই। আর তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণ ইসলামী মীরাছ অনুযায়ী তার সম্পত্তির হকদার হবেন।

বি.দ্র.

১. জীবিত অবস্থায় সন্তানদেরকে হাদিয়া স্বরূপ টাকা-পয়সা, সম্পত্তি দেওয়া জাযয়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে এক সন্তানকে দেওয়া এবং অন্য সন্তানকে না দেওয়া বা কম দেওয়া মাকরুহে তানযীহী। আর যদি অন্য সন্তানকে ক্ষতি পৌঁছানো উদ্দেশ্য হয় তবে তা মাকরূহে তাহরীমী। আর যদি শরীয়ত সম্মত কারণে এরূপ করা হয় তবে তা জায়েজ আছে।

অতএব মোহাম্মদ মোস্তফা সাহেব যেহেতু মোহাম্মদ আলী সাহেবের ব্যবসা ও সংসারের পিছনে অনেক কষ্ট-মেহনত করেছেন, তাই মু. আলী সাহেব চাইলে তাকে কিছু সম্পত্তি বেশি দেওয়ার অবকাশ আছে।

২. যদি মোস্তফা সাহেব মোহাম্মদ আলী সাহেবের অনুমতি ব্যতীত যৌথ ব্যবসার আয় দ্বারা নিজের নামে সম্পত্তি ক্রয় করে থাকেন তবে তিনি খেয়ানত করেছেন। অতএব তার জন্য ওই সম্পত্তি এককভাবে ভোগ করা জায়েজ হবে না।

Last Updated : 05:29 PM 29 February 2020